দুর্গাপূজায় কি গরুর মাংস রান্না করেন, রুদ্রনীলের প্রশ্ন

0
3

গরুর মাংস রান্না করা ও খাওয়া নিয়ে একটি টক শোতে কথা বলায় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্তকে খুন ও গণধর্ষণের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বাদ পড়েননি অভিনেত্রীর মাও। তাকে নিয়েও চলছে ন্যক্কারজনক মন্তব্য। বিষয়টি নিয়ে সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে যাদবপুর থানায় অভিযোগও করেন দেবলীনা।

এরপর থেকেই বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে কলকাতাজুড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি ও শোবিজের অনেক তারকা ব্যক্তি দ্বিধা-বিভক্ত হয়েছেন। জড়িয়েছেন কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে। রুদ্রনীল ঘোষের মতো অভিনেতাও বাদ যাননি সেই তালিকা থেকে। সরকারি দল বিজেপিতে যোগ দিতে যাওয়া গুঞ্জনে থাকা এই অভিনেতাকে অনেকে কাঠগড়ায়ও তুলেছেন তার সাম্প্রদায়িক মানসিকতার জন্য।

শুরু থেকেই তিনি দেবলীনার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পূজায় গরুর মাংস রান্না করার প্রসঙ্গ তোলায়। নতুন করে আরও একবার মুখ খুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি ‘এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার’- অন্ধকার সকালের গ্লানি মুছে দেয়ার প্রয়াসে সোমবার রাস্তায় নেমেছিল টলিপাড়া। জমায়েতে ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। নারীবিদ্বেষী প্রবণতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন প্রত্যেকে। কখনও গানে, কখনও ভাষণে।

কিন্তু টলিপাড়ার বিখ্যাত মুখ রুদ্রনীল ঘোষ উপস্থিত ছিলেন না কেন? সে প্রশ্ন জানার জন্যই আনন্দবাজার ডিজিটালে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘পথে নামার প্রয়োজন পড়ল কেন?’

প্রথমেই এই প্রশ্নটি করলেন অভিনেতা। তার মতে, গণধর্ষণ এবং খুনের হুমকি এলে নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে সাইবার সেলের মতো শক্তিশালী দফতর রয়েছে। তাদের সাহায্য নেয়া হয়নি কেন!

অভিনেতার ভাষায়, ‘যারা এই হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আমি তো জানি, কলকাতা পুলিশ খুবই সক্রিয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার উদাহরণ পেয়ে থাকি। এই ক্ষেত্রে তারা কিছু করছে না কেন? তার মানে কি সায়নী ঘোষ ও দেবলীনা দত্ত সেই পথ অনুসরণ করে কোনো সুরাহা পাননি? তাই আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হলেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই আগে।’

নরীদের ওপর আক্রমণ নেমে আসছে দেখেও কেন রুদ্রনীল সেই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন না? এই প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রনীল জানান, তিনি কোনো আমন্ত্রণ পাননি। এ রকম কোনো সভার তথ্য ছিল না তার কাছে।

গোটা পরিস্থিতি নিয়ে তার কয়েকটি বক্তব্য রয়েছে। তিনি মনে করেন, ‘নারীদের ওপর এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত অন্যায়। কঠোর সাজা দেয়া উচিত সেই মানুষগুলোকে। কিন্তু এ ধরনের হুমকির সূত্রপাত কোথায়? দেবলীনা দত্ত টেলিভিশনে গোটা দেশের সামনে যেভাবে অষ্টমীর দিন গরুর মাংস রান্না করার কথা বলেছিলেন, তাতে একাধিক ধার্মিক মানুষ আঘাত পেয়েছেন। সেই মানুষগুলো যে কেবল বিজেপি, সেই ভাবনাটা ভুল।’

রুদ্রনীল যোগ করলেন, ‘দেবলীনার বৃদ্ধা মা আতঙ্কিত শুনলাম। দেবলীনার মাকে জিজ্ঞেস করুন তো, দুর্গাপূজার সময় কখনও গরুর মাংস রান্না করার কথা ভেবেছেন কি? এ রকম কথায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষরা আঘাত পান জেনেও এ ধরনের কথা বলার কী মানে? আমাদের শিল্পীদেরও একটি নৈতিক দায়িত্ব বর্তায় কিন্তু!’

রুদ্রের মতে, ‘যে কোনো নির্বাচনের আগে মানুষ একটু বেশি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। নির্বাচনের আগে প্রত্যেক দলের সমর্থক ও কর্মীরাই এই আক্রমণাত্মক প্রবণতার শিকার। তাই অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বা অসভ্য আচরণ করেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here